
হাদীস শাস্ত্রের জটিলতা নিরসন ও সমকালীন বিভ্রান্তির জবাবে অনবদ্য গ্রন্থ ‘তাহসীনুল হাদীস’
শাইখুল হাদিস হুসাইন আহমদ হবিগঞ্জীর দীর্ঘ ২৪ বছরের সাধনার ফসল; শিক্ষক-শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সাধারণ পাঠকের জন্য এটি এক অনন্য সংকলন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
হাদীস শাস্ত্রের গভীর জ্ঞান অর্জন, সমকালীন বিভিন্ন বিভ্রান্তির নিরসন এবং সাধারণ মুসলমানদের ঈমান-আকিদা সুরক্ষায় প্রকাশিত হয়েছে যুগান্তকারী গবেষণাধর্মী গ্রন্থ ‘তাহসীনুল হাদীস’। ইলমে হাদীসের মতো জটিল ও তাত্ত্বিক বিষয়কে অত্যন্ত সাবলীলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এই গ্রন্থে। এটি প্রখ্যাত আলেম ও গবেষক শাইখুল হাদিস হুসাইন আহমদ হবিগঞ্জীর দীর্ঘ ২৪ বছরের সাধনার ফসল। শুধু মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীই নন, বরং সাধারণ শিক্ষিত সমাজ—যারা বিভিন্ন ইসলামিক ইস্যু নিয়ে বিভ্রান্তিতে ভোগেন, তাদের জন্য কিতাবটি একটি নির্ভরযোগ্য সমাধান হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
কী আছে এই গ্রন্থে?
‘তাহসীনুল হাদীস’ মূলত হাদীস শাস্ত্রে পাণ্ডিত্য অর্জনের প্রথম সোপান। এতে সহীহ, হাসান ও যঈফ হাদীস নির্ণয়ের সূত্রাবলি অত্যন্ত সহজভাবে তুলে ধরা হয়েছে। কিতাবটির অন্যতম আকর্ষণ হলো বিখ্যাত ‘শরহে নুখবাতুল ফিকার’ গ্রন্থে উল্লেখিত ৭৫ প্রকার হাদীসের আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থ, প্রকারভেদ, শর্ত ও উদাহরণ নতুন বিন্যাসে উপস্থাপন।
এছাড়া এতে যুক্ত করা হয়েছে উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেম শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দিসে দেহলবী (রহ.)-এর বিখ্যাত ‘মুকাদ্দিমা’-এর সরল অনুবাদ (আরবি হরকতসহ)। রয়েছে তাকমীল (দাওরায়ে হাদীস) ও ফযীলত জামাতের সকল হাদীস গ্রন্থের বৈশিষ্ট্যাবলী, সংকলনের কারণ এবং শতাধিক সাহাবী ও তাবেঈ রাবীর প্রামাণ্য জীবনী (আসমাউর রিজাল)। ইলমে হাদীসের চার প্রকারের সংজ্ঞা, ৩২ প্রকার কিতাব পরিচিতি এবং রাবীদের স্তর ও জারাহ-তাদীল সম্পর্কে সবিস্তারে আলোচনা করা হয়েছে গ্রন্থটিতে।
সমকালীন বিভ্রান্তির দাঁতভাঙা জবাব
বর্তমান সময়ে ‘আহলে কুরআন’ নামধারী একটি গোষ্ঠী হাদীস অস্বীকারের যে অপচেষ্টা চালাচ্ছে, কিতাবটির ‘হাদীস অস্বীকারের বিভ্রান্তি’ প্রবন্ধে তাদের ৬টি প্রতারণা বা অজুহাত চিহ্নিত করে বর্ণনা ও বুদ্ধিবৃত্তিক প্রমাণের আলোকে দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি ‘আদালতে সাহাবা’ প্রবন্ধে ১০টি আয়াত, ১০টি হাদীস, ১০টি ইজমা ও ১০টি যুক্তির মাধ্যমে সাহাবায়ে কেরাম যে সত্যের মাপকাঠি, তা অকাট্যভাবে প্রমাণ করা হয়েছে। এছাড়া ‘সহীহ ও যঈফ’ হাদীসের নামে সমাজে প্রচলিত আমল প্রত্যাখ্যানের যে ধূম্রজাল সৃষ্টি করা হয়েছে, তারও উৎস ও সমাধান তুলে ধরা হয়েছে এই বইতে। ‘তাকলীদে আইম্মা’ নামক নিবন্ধে মাযহাব মানার প্রয়োজনীয়তা যৌক্তিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে, যা আধুনিক শিক্ষিত সমাজের অনেক দ্বিধাদ্বন্দ্ব দূর করতে সক্ষম।
যাদের জন্য ‘তাহসীনুল হাদীস’
* শিক্ষক ও মুহাদ্দিসদের জন্য: বুখারী, মুসলিম, তিরমিযীসহ যেকোনো হাদীস গ্রন্থের দারস প্রদানকারী শিক্ষকদের জন্য এটি দারুণ সহায়ক গ্রন্থ। বছরের শুরুতে এটি একবার অধ্যয়ন করলে শিক্ষার্থীদের হাদীসের খুঁটিনাটি বোঝানো সহজ হবে এবং অন্য কিতাব মুতালাআর সময় বেঁচে যাবে।
* শিক্ষার্থীদের জন্য: ফযীলত (মিশকাত) জামাতের ছাত্রদের জন্য ‘নুখবাতুল ফিকার’-এর মতো জটিল কিতাব বোঝাকে এটি অত্যন্ত সহজ করে তুলবে। পড়ার টেবিলে এটি থাকলে হাদীসের মাবাদিয়াত জানতে বিভিন্ন কিতাব খোঁজার পেরেশানি থাকবে না।
* সাধারণ শিক্ষিত সমাজের জন্য: যেসব জেনারেল শিক্ষিত ভাই-বোন মাযহাব মানা না মানা নিয়ে দ্বিধায় ভোগেন কিংবা বিপরীতমুখী বক্তব্য শুনে সাহাবায়ে কেরামের মর্যাদা নিয়ে সংশয়ে থাকেন, এই কিতাবটি তাদের হৃদয়ের সকল অস্থিরতা দূর করবে।
* সঠিক আমল সন্ধানীদের জন্য: হাদীসের মূলনীতি না জানার কারণে যারা ভুলভাল আমল শুরু করেন, এই কিতাবটি তাদের হাদীস বিজ্ঞানে পারদর্শী করার পাশাপাশি সঠিক আমলের পথ দেখাবে।
পরিশেষে বলা যায়, দীর্ঘ ২৪ বছরের নিরলস গবেষণার যে নির্যাস শাইখুল হাদিস হুসাইন আহমদ হবিগঞ্জী এই গ্রন্থে ঢেলে দিয়েছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। ইসলামী আইন শাস্ত্রের মূল গ্রন্থগুলো থেকে যেমন ফতোয়া দেওয়া যায়, ঠিক তেমনিভাবে উসূলে হাদীস ও সমকালীন ফিতনা নিরসনে ‘তাহসীনুল হাদীস’ কিতাবটি বর্তমান সময়ের এক নির্ভরযোগ্য ঠিকানা।
সরাসরি কিতাবটি সংগ্রহ করতে:
কোনো মধ্যস্বত্বভোগীকে কমিশন না দিয়ে সরাসরি লেখকের কাছ থেকে কিতাবটি সংগ্রহ করা যাবে। যোগাযোগের মাধ্যম:
* হোয়াটসঅ্যাপ: 01717801647
* ওয়েবসাইট:

www.darsulhadis.com


Reviews
There are no reviews yet.